কাশীপ্রসাদ ঘোষ

কাশীপ্রসাদ ঘোষ: কবি ও সাংবাদিক

সংক্ষিপ্ত পরিচয় ও জন্ম

কাশীপ্রসাদ ঘোষ (১৮০৯–১৮৭৩) ছিলেন বাংলা নবজাগরণের যুগের একজন অন্যতম কবি এবং সাংবাদিক। তিনি কলকাতার হেদুয়ায় এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিন্দু কলেজের (বর্তমান প্রেসিডেন্সি কলেজ) ছাত্র ছিলেন।

সাহিত্যিক জীবন ও কবিতা

ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা

  • কাশীপ্রসাদ ঘোষ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদন দত্তেরও আগে ইংরেজিতে সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। হিন্দু কলেজে পড়াকালে অনুবাদ ও মৌলিক কাব্য রচনায় অসাধারণ প্রতিভা দেখিয়েছিলেন।
  • তাঁর ইংরেজি কবিতার মধ্যে ‘The Young Poet’s First Attempt’, ‘Hope’, ‘The Shair and Other Poems’, ‘The Boatmen’s Song to Ganga’ উল্লেখযোগ্য।
  • ১৮৩০ সালে প্রকাশিত ‘The Shair and Other Poems’ তিনি উৎসর্গ করেছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ককে। এই কাব্যগ্রন্থে বাংলার উৎসব, নদী, সাধারণ জীবন ও সংস্কৃতির রূপ উঠে আসে।
  • তাঁর সাহিত্যিক কাজের দ্বারা এল. রিচার্ডসন, ডেভিড হেয়ার, রাজা রাধাকান্ত দেব প্রভাবিত হন এবং প্রশংসা করেন।

বাংলা গান ও কবিতা

  • ইংরেজি লেখার পাশাপাশি তিনি বাংলাভাষায় শতাধিক গান ও ধর্মসঙ্গীত রচনা করেন।
  • তাঁর বাংলা গানের সংগ্রহ ‘গীতাবলী’ এবং পরে ‘প্রীতি-গীতি’ নামে সংকলিত হয়।
  • গানগুলোর মধ্যে টপ্পা ধারা ও পরকীয়া প্রেম, আদিরস, বৈষ্ণব পদাবলী, বাংলার কলাসংস্কৃতি উঠে এসেছে।
কাশীপ্রসাদ ঘোষ

সাংবাদিক ও সম্পাদক জীবন

  • ১৮৪৫ সালে কাশীপ্রসাদ ঘোষ প্রকাশ করেন ‘The Hindu Intelligencer’ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা, যা ছিল ভারতীয়দের সম্পাদিত প্রথম ইংরেজি সংবাদপত্র।
  • এছাড়াও ‘মুখার্জীর ম্যাগাজিন’, ‘The Hindu Patriot’–সহ অন্যান্য বাংলা ও ইংরেজি পত্র-পত্রিকাতেও তিনি লিখতেন।
  • গিরিশচন্দ্র ঘোষ, হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, শম্ভুচন্দ্র মুখোপাধ্যায়—এই সব নবযুগের তরুণদের লেখালেখির সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
  • ব্যক্তিগতভাবে তিনি রক্ষণশীল ছিলেন—বহুবিবাহ, বিধবা বিবাহ, স্ত্রীশিক্ষা ইত্যাদির বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছিলেন এবং ধর্মসভার সদস্য ছিলেন।

সমালোচনা, আদর্শ ও সাহিত্যিক মূল্য

  • কাশীপ্রসাদ ‘On Bengali Poetry’, ‘On Bengali Works and Writers’-এ বাংলা সাহিত্যের কাব্য, বিশেষত নিধুবাবু, ভারতচন্দ্র ও বিদ্যাসুন্দর নিয়ে সমালোচনা করেন ও ইংরেজি অনুবাদ করেন।
  • তাঁর কবিতা এবং গান অনেকাংশে রোমান্টিকতা, দেশাত্মবোধ এবং আধ্যাত্মিক ভাবের ছাপ বহন করে।
  • তাঁর ‘Boatmen’s Song to Ganga’ ও ‘Lament of Oudh on the Annexation’ জাতীয় কবিতায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর মনের ক্ষোভ প্রকাশিত হয়।

ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক অবস্থান

  • সুপ্রিম কোর্টের গ্র্যান্ড জুরি, কলকাতা পুরসভায় জাস্টিস অফ পিস ছিলেন।
  • নিবেদিত সাহিত্যিক, সামাজিকভাবে তিনি সাহিত্যবৃত্তে প্রতিষ্ঠিত হলেও, রক্ষণশীল ব্যক্তিত্বের জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
  • ভিক্টোরিয়ান ইংরেজি সাহিত্য ও সংস্কৃতির আদর্শে গড়ে উঠেছিলেন; তবে শেষ জীবনে মাতৃভাষার প্রতি গভীর আকর্ষণ ছিল।

মৃত্যু

  • কাশীপ্রসাদ ১৮৭৩ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ঠিক সেই বছরই কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তও মারা যান।
  • কলকাতা হেদুয়ার ৫৫বি অভেদানন্দ রোডের বাড়িতে জীবনের শেষ দিন কাটনা।
  • জাতীয় সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসাধারণ কৃতিত্ব, ইংরেজি কবিতায় রোমান্টিকতা, দেশাত্মবোধ ও স্বদেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছিলেন।
  • তাঁর কাজ ভারতের ইংরেজি সাহিত্য, বাংলা গান ও সমাজচিন্তা—তিন দিকেই চিরকালীন প্রভাব রেখেছে।

ইচিং বিচিং

ইচিং বিচিং

ইচিং বিচিং জামাই চিচিং।মাকড়েরা নড়ে চড়ে,সাত কুমড়া ডিম পাড়ে।এলের পাত বেলের পাত,খলসে মাছের চোকা,উড়ে বসে…

Read More
পাঁকাল-মাছের-কাঁকাল-সরু

কল্পতরু

পাঁকাল মাছের কাঁকাল সরুমেয়েটি যেন কল্পতরু!মেয়ে হ’ব, ঘর নিকব,পরবো পাটের শাড়ি-খড়-খড়েতে চড়ে’ যাবজমিদারের বাড়ি ।।…

Read More
থেনা নাচন থেনা

নাচন

থেনা নাচন থেনা,বট পাকুড়ের ফেনা।বলদে খেলো চিনা,ছাগলে খেলো ধান,সোনার যাদুর জন্যে যেয়েনাচনা কিনে আন ।।…

Read More
চাঁদের-পানে

চাঁদের কণা

চাঁদের পানে চেয়ে চেয়েরাত কেটেছে কত,তাইতো সোনা চাঁদের কণা,পেয়েছি মনের মত।ধনকে নিয়ে বনকে যাবোআর করব…

Read More
আয় রে আয় টিয়ে

আয় রে আয় টিয়ে

আয় রে আয় টিয়েনায়ে ভরা দিয়ে।না’ নিয়ে গেল বোয়াল মাছেতাই না দেখে ভোঁদড় নাচে।ওরে ভোঁদড়…

Read More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *